মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০১৭

আহলে হাদীস ''সালাফী'র স্বরূপ কি?

 আহলে হাদীসের সংজ্ঞা কি?


সরাসরি কোরআন হাদীসের উপর আমল করতে আমরা অনেকেই আগ্রহী , যেহেতু কোরআন হাদীসের সুদৃঢ় পথকে আকড়ে ধরতে কোরআনে বলা হয়েছে সুতরাং ইসলাম পালনার্থে অন্য কোন পথ ও মতের প্রয়োজ নেই।
 تركت فيكم امرين لن تضلوا ما تمسكتم بهما كتاب الله و سنة رسوله
অর্থাৎ আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি , যতদিন তোমরা এ দুটিকে আকড়ে ধরবে ততদিন পর্যন্ত গোমরাহ হবেনা , একটি হল কুরআন আরেকটি হল হাদীস।
এজন্য সরাসরি কোরআন ও হাদীসের উপর আমল করে চলাই যুক্তিযুক্ত। আমরা কেন ভিন্ন মত, মাজহাব ,মাসআলা নিয়ে গভেষণায় লিপ্ত হব? কেন দলদলে বিভক্তি হয়ে মুসলিম ভ্রাতিত্বকে পদদলিত করবো?  কোন রকম মাধ্যম ছাড়া সীরাতে মুস্তাকিমে চলতে বাঁধা কিসের?
আসুন আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে বিশ্লেষণে সে দিকে যাই...                               প্রতিটি মুসলমান ইসলামী বিধিবিধান পালন করতে হলে কোরআন হাদীসের অনুসারী হতে হবে ,আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকনির্দেশনা মানতে হলে কোরআনে কারীমের সাথে সাথে হাদীসে নববীর পরিপূর্ণ নির্দেশনা আমাকে মানতে হবে। এত্তেবায়ে কোরআন ও সুন্নাহকে সঠিকভাবে অনুসরণ করলেই আমি তখন খাঁটি মুমিন মুসলমান।

🔍
আহলে হাদীসের রূপ কি?
  • আহলে হাদীস 
  • সালাফি
  • গায়রে মুকাল্লিদ
  • লা-মাযহাবী
  1. প্রথমত আহলে হাদীস (হাদীসের অনুসারী)
  2. ২য় সালাফি (যারা সলফে সালেহীনদের অনুকরণঃ)
  3. ৩য় গায়রে মুকাল্লিদ (যারা তাকলীদ/ইসতেম্বাত অস্বীকারকারী)
  4. ৪র্থ লা-মাযহাবী (যারা ৪ মাজহাবকে সরাসরি অস্বীকারকারী)

উপরে উল্লেখিত সকলেই মূলত এক ও অভিন্ন ,অর্থাৎ তারা কোরআন হাদীসের সরাসরি অনুসারী দাবিদার।✒ প্রতিটি মুসলিম পুর্ণাঙ্গরূপে ইসলামি বিধিবিধান পালন করতঃ যেমন নামাজ, রোজা,হজ্জ,যাকাত ইত্যাদি ইত্যাদি প্রত্যহ বিষয়ে অন্তঃত ৫-১০টি হাদীস বর্ণিত আছে , আপনাকে আমলের ক্ষেত্রে যে কোন একটি হাদীসকে আমলে নিতে হবে, সব কয়টি হাদীস একত্রে এক সাথে মানা কোনভাবে সম্ভব নয়। যেমন ধরুন নামাজে কোথায় হাত বাঁধবো?           এই নিয়ে হাদীস রিসার্চ করে করে আমাকে তা বের করতে হবে ,পা’ কোন পজিশনে রাখবো? । অনুরূপ অনেকগুলো বিধানের ক্ষেত্রে ৫-১০টি বর্ণনা রয়েছে।এখন কোন হাদীস জয়ীফ আর কোনটি দুর্বল সেটি বিবেচনা করবো নাকি সময়মত নামাজ পড়বো , রোজা রাখবো?

আদিল্লায়ে আরবাআ:
তথা কোরআন , সুন্নাহ , ইজমা , কিয়াস
এই চারটি বিষয় থেকে লা-মাজহাবীরা শুধু দুইটাকে ব্যতিত বাকি ২টাকে তারা অস্বীকার করে।

এই সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে 
➥ সহীহ হাদীসের ক্ষেত্রে কোন হাদীটিকে প্রধান্য ‍দিব ? এই নিয়ে আছে বিরাট রিসার্চ,
  সনদের ক্ষেত্রে রাবি (বর্ণনাকারী) জীবনী সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা থাকা আবশ্যক।     রা’বির চরিতার্থ কেমন ? এসব বিষয়ে বর্তমান বিশ্বে ফিতনা-ফাসাদের জামানায় ভাবনা গভেষনা করে বিধিবিধান পালন করা নিছক বুকামি। তাহলে আমরা কিভাবে এগিয়ে যাব ইসলামি জীবন ধারায় ? 

৪টি মাজহাবেই রয়েছে মূল সমাধান , মাজহাব মানার অর্থ কোরআন হাদীস ছেড়ে ভিন্ন একটি পথ অনুসরণ নয়, বরঞ্চ সালফে সালেহীনদের পদঙ্খ অনুসরণ করে কোরআন হাদীস বুঝা ।

⚖ জনসাধারণের ক্ষেত্রে যদি আহলে হাদীস মতাদর্শ প্রয়োগ করা হয় তাহলে দেখুন ফিৎনা কি পরিমান সয়লাব হবে মুসলিম সমাজে !

  • জনসাধারণ যেই হাদীস সামনে পাবে তাকেই যাচাইহীন আমল শুরু করে দিবে, যার যার মত অনুপাতে নিজেদের আমলি জিন্দেগী ঢালাও ভাবে সাজাতে চেষ্টা করবে।
  • দৈনিন্দিন ইসলামি মৌলিক চাহিদাকে বাস্তবায়নে জনগণ প্রত্যহ বিবিধ হাদীসের উপর আমল করলে তখন মাজহাবের পরিসংখ্যান যাচায়ের জন্য ক্যালকুলেটর ব্যবহারে মানুষ ব্যর্থ হবে।
  • তখন যত মুসলিম  তত মাজহাব , এবং ততই ফিৎনা ‍। সুতারাং ইসলামকে পরিপূর্ণ রূপে মেনে নিতে চাইলে চার মাজহাবের বিকল্প নেই , 
চার মাজহাব মানা ব্যতিত আর সব ভণ্ডামী, ইসলামের মধ্যে তারা চরম ফেৎনাবাজ ।
অতএব নিজেদের ঈমান আমল হেফাজত করতে হলে আহলে হক্বদের নিকট জানুন...
টাকা পয়সার লোভে / কাহারো প্ররোচনায় পরে নিজের ঈমান আকিদাকে বরবাদ করে ফেলবেননা

আল্লাহ আমাদের সকল মুসলিম ভাইদেরকে এই সকল ফেৎনা থেকে হেফাজত করুক । 
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন