বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৫

কওমী মাদ্রাসার পাঠ্য বিষয়বস্তুতে আদর্শ রাষ্ট্র ব্যবস্থা | মুফতী সিরাজী


আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের কৃতিত্ব। 







 কিভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে, প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক কেমন হবে,  কিভাবে দেশের মানুষের মধ্য শান্তি আসবে-তার সুবিন্যস্ত আলোচনা রয়েছে ইসলামে।
আজ দেশের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা, ঝগড়া বিবাদ ও পরস্পরে দ্বন্দ্ব -কলহের একমাত্র কারণ হচ্ছে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা না থাকা।
 এসব সমস্যার একমাত্র সমাধান হচ্ছে ইসলামী রাষ্ট ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

আর ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা শিক্ষা দেওয়া হয় কওমী মাদ্রাসায়।
ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা যদি কায়েম হয়ে যায় তাহলে নিঃসন্দেহে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।


দেশ বিরাজ করবে অনাবিল শান্তি,
মানুষের মাঝে সৃষ্টি হবে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব,
থাকবেনা পরস্পরে দ্বন্দ্ব -কলহ, হত্যা রাহাজানি যুদ্ধ বিগ্রহ।
দুনিয়াতে বিরাজ করবে জান্নাতি পরিবেশ।

এর নজীর ইসলামের ইতিহাসে অনেক রয়েছে। যেমন হযরত ওমর ইবনে আঃআজিজের সময় বাঘ ও বকরী এক ঘাটে পানি খেত। কিন্তু বাঘ বকরীর উপর আক্রমন করত না। মানুষে মানুষে ঝগড়ার কোন প্রশ্নই আসে না। বর্তমানেও ঐ পরিবেশ কায়েম করা সম্ভব যদি ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা সমাজে প্রতিষ্ঠা করা যায়।
মোটকথা হল-মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনীতিক ও রাষ্ট্রিয় জীবনের সব সমস্যার সমাধান করে সর্বস্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠার্থে যেসব বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য - ঐ সব বিষয় এ সকল কওমী মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়া হয়।
সুতরাং কওমী মাদ্রাসার সিলেবাসে পরিবর্তন না করে এই সিলেবাসটা যদি স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়,  তাহলে দেশের সমস্যা সমাধান অনেকটা সহজ হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

তাই দেশবাসীর প্রতি আমার আকুল আবেদন, কালের স্রোতে ভেসে যাবেননা।  চিন্তা করুন, আল্লাহ আপনাকে বিবেক বুদ্ধি দান করেছেন।
কোন দিকে আপনার যাত্রা হবে?
আপনার কলিজার টুকরা সন্তানকে কোন শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন?
ভেবে দেখুন।

অবশেষে দেশে নামধারী বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা প্রথমে আল্লাহর কাছে তওবা করুন।  তারপর চিন্তা করে দেখুন,  কওমী মাদ্রাসার সিলেবাসে সন্ত্রাসের কোন আশ্রয় নেই। কওমী মাদ্রসা সন্ত্রাস প্রজনন কেন্দ্র হতে পারেনা।
মাদ্রসা -মসজিদ,  মার্কাজ -খানকা এসব ইসলামের প্রচার ও সংরক্ষণ কেন্দ্র।

সুতরাং কোন একটিকে সন্ত্রাসী মহল  সাব্যস্ত করা ইসলামের বিরুদ্ধে, নবীর বিরুদ্ধে, আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার শামিল।

তাই ভাই ও বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ, আমরা (কওমীপন্থী আলেমগণ) আপনাদেরকে শান্তির ধর্ম ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে হেদায়ত দান করুন,  আমিন