শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৫

নির্ভেজাল এক আশেকে রাসুলের স্মৃতিকথা →মুফতী সিরাজী

পবিত্র কুরআনে নবীপ্রেম (prophet love) বেশ আলোচিত এবং নির্দেশিত।
আর তা নিয়ে সীমা এবং দ্বিধাহীনতা।  এই দুই পক্ষপাত  নিয়ে মুসলিম উম্মার  বিভক্তি দেখা দিয়েছে (যদিও এটা ইংরেজ সৃষ্ট বিবাদ)
ইংরেজরা কোন দিন এদেশের মানুষ সাম্য,বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক হোক এটা চায়নি।

উপমহাদেশে মুসলমানদের বিভাজিত করে হিংসার কৃষ্ণ আঁধারে ডুবিয়ে রেখে গিয়েছে।
খোদার  কসম!  ইংরেজরা "যে মুসলিদের ওয়াহাবী আখ্যা দিয়ে নোটিশ চাপিয়েছে তারা মোটেও ওয়াহাবী নয়!  তারাই প্রকৃত "আহলে সুন্নাত"।

আর যাদের সুন্নি বলে চাদরে গা ঢাকা দিয়েছে তারা মূলত "বেরলভী"।
মুসলিম ভ্রাতিত্বে চির ফাটল ধরিয়ে দিয়ে গেছে ক্রুসেডরা।

কোরআন-হাদীসের আলোকে আশেকে রাসুল...,
আল্লাহ বলেন ;
 يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُوْلِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا 
(59)
( سورة النساء )
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর (তথা কুরাআন-সুন্নাহর আলোকেই তা সিদ্ধন্ত গ্রহন কর)-যদি তোমরা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম। (সূরা নিসা-৫৯)

এই ধরণের অনেক আয়াত, যেথায় ভালোবাসার পাশাপাশি অনুসরণের তাকিদঐ বেশি দেওয়া হয়েছে।

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। [সুরা ইমরান: ৩১]

যার কার্যকলাপের মধ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নবী প্রেম বিদ্ধম, সেই নির্ভেজাল আশেকে রাসুল (সাঃ)।

➽ নবীর মহব্বতের
মাফকাঠি হলো সুন্নাতে রাসূল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন,
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ؛ ﻣﻦ
ﺍﺣﺐ ﺳﻨﺘﻰ ﻓﻘﺪ ﺍﺣﺒﻨﻰ ﻭﻣﻦ ﺍﺣﺒﻨﻰ ﻛﺎﻥ ﻣﻌﻰ ﻓﻰ ﺍﻟﺠﻨﺔ
এখানে তিনি বলেছেন,
ﻣﻦ ﺍﺣﺐ ﺳﻨﺘﻰ ﻓﻘﺪ ﺍﺣﺒﻨﻰ
যে আমার সুন্নতকে মহব্বত করবে অর্থাৎ আমার সুন্নতের পায়বন্ধ
হবে,
তারাই আমাকে মহব্বত করে। অর্থাৎ মহব্বতের
মাফকাঠি হলো সুন্নাতে রাসুল।
ﻭﻣﻦ ﺍﺣﺒﻨﻰ ﻛﺎﻥ ﻣﻌﻰ ﻓﻰ ﺍﻟﺠﻨﺔ
আর আমার সুন্নাত পালন করার
মাধ্যমে যারা আমাকে মহব্বত করবে, তারা আমার
সাথেই জান্নাতে থাকবে।
মনে, প্রানে, সর্বাঙ্গে তার ভালোবাসার স্বরূপ হল→ কাজে (সুন্নতে) তা বাস্তবায়িত করা।
এমন প্রকৃত ভালোবাসার প্রতিফলন সোজা জান্নাত!

আজ এমন একজন অসাধারণ মানবীর প্রেমালাপ আলোকপাত করবো,  যার হৃদয়সিক্ত  নবী প্রেমজলে। 



আল্লামা আলহাজ্ব মুফতী নূরুল্লাহ্ সাহেব (রহঃ),

যার জীবনে ৩০বারের চেয়ে বেশি হজ্বব্রত পালনের সুভাগ্য হয়। 
মদীনা প্রেমের সিন্ধুক এই মনীষী, পর্যাপ্ত ধনভান্ডারের অধিকারী না হয়েও এতবার হজ্বের অপূর্ব সুযোগ কি করে পেলেন?

তাই আসুন  ওনার জীবনে প্রথমবার হজ্বে গমণের ইতি কথার পর্বে ফিরে যাই! 
♣ তিনি দৈনিন্দিন হাজারো বার দরুদ পৌঁছাতেন সোনার মদীনায়। সুন্নতি জীবনযাপনে সদা অঠল অবিচল থাকতেন।

মদীনা রওয়ানা ওনার আবেগি প্রেরণা নিয়ে ঘুরতেন নিশিদিন।
হঠাৎ এক নিঝুম রজনীতে ঘুমের মধ্যে সুদর্শন সবুজ পরিধেয় অপূর্ব রূপে,  মদীনাওয়ালা ওনাকে সুহবত দিয়ে মক্কা-মদীনা নিমন্ত্রন করলেন।

ঘুম থেকে উঠে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ়!!  আনন্দে হাঁসবেন না কাঁদবেন?
যার জন্য এ জীবন ধন্য, তিনি আজ স্বপ্ন রাজ্যে মুলাকাত করলেন। এই আনন্দ'কি আর সামলে নেওয়া যায়?

এত আনন্দ থাকা সত্তেও হাউমাউ করে ডুকরে কাঁদতে ছিলেন।
নির্দিষ্ট নামাজ পড়ে, একাগ্রতার সাথে ধ্যানে মগ্ন হলেন।
ক্ষণকাল পরেই মসজিদের  মিনারা মাইক থেকে প্রভাতী সূচনা আজানের ধ্বনিতে মুখরিত হলো পুরো শহর।

ফজরের সালাত বেশ মনযোগের সাথে পড়িয়া, গভীর চিন্তায় নিমজ্জিত হয়ে অশ্রুজল ফেলতে লাগলেন (তখনো হুজুর হজ্জ করার সমর্থবান হননি) এছাড়া বিকল্প ব্যবস্থাও নেই।

তাই মনে প্রাণে আল্লাহ ও রাসুলকে স্মরণ করছেন।
রোদেলা সকালে সোনালী আভা নিয়ে রবির আলো চারিদিকে  ফুটার আগেই কে যেন এসে হুজুরের কক্ষ্যে কড়াঘাত করলেন!
হুজরার ফটক খুলতেই এক অচেনা যুবক সালাম জানিয়ে ওনার সঙ্গে কৌশল বিনিময় করলেন।

কথার ফাঁকে জৈনক ব্যক্তিটি  এক সময় হুজুরকে করুণ স্বরে আরজি করে বসলেন জেন,  এই বৎসর তার মা/বাবার বদলি হজ্জখানা তিনি  করে আসেন।


আল্লামা মুফতী নূরুল্লাহ্ সাহেব (রহঃ) হাতে জেন চাঁদ পেলেন, পেলেন জেন তার হারানো আত্বা। তিনি আল্লাহর শোকর আদায় করে আনন্দে আত্বহারা হয়ে গেলেন।

এভাবে ওনার জীবনের প্রথম হজ্বব্রত আদায়ের সুযোগ হওয়ার পর নিজ থেকে ৩০ বারের উর্ধে মক্কা মদীনা গমন করেন।


তবে জীনের শেষ ইচ্ছাটুকু অপূরণই থেকে গেলো।
আমাদের প্রায়সময় বলতেন হজ্জ অবস্থায় মক্কা মদীনায় ওনার ওয়াফাত হবে আর নবীর দেশেই তাকে দাফন করা হবে!

এই মদীনাওয়ার আশেকটি কত যে প্রেরণা নিয়ে ঘুরতেন মদীনায় ওনার মৃত্যু ও দাফ হবে, এই মরণটি তার কাম্য ও সর্বউৎকৃষ্ট মৃত্যু বল ধারণা ছিল।
কিন্তু খোদার কৃপায় ব্রাক্ষণবাড়ীয়া "জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া" শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন!

আর সমাধিস্থ হলেন যুগ বিখ্যাত ওলীয়ে কামেল আল্লামা ফখরে বাঙ্গাল তাজুল ইসলাম (রহঃ)-এর পাশ্বে।

আমার প্রিয় ওস্তাদজীর জন্য ব্লগিং প্লেনটি উৎসর্গ করলাম। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন